প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস
• ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও আশুগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ঢাকা সিলেট মহাসড়কের সংলগ্ন ছোট্ট একটি গ্রাম কামাউরা। আশুগঞ্জ উপজেলাটির পাশেই রয়েছে সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলা দুটি । এই তিনটি উপজেলার ভিতরে ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় (একমাত্র) মহিলা কলেজ “তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজ”।
• গ্রামের মেয়েদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসএসসি পাশ করবার পরে আর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবার সুযোগ পায় না- এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। এর পিছনে যে বাস্তব কারণগুলি কাজ করে তার ভিতরে অন্যতম হচ্ছে দারিদ্রতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবোধের অভার । এই জলস্ত সমস্যাগুলি চিহ্নিত করেছেন জনহিতৈষী , উদারমনা, বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিত্ব ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য জনাব জিয়াউল হক মৃধা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জনাব দানিউল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জর্জ কোর্টের এ্যাডভোকেট জনাব আব্দুল মোমিন ভূইঞা , সর্বোপরি মাস্টার মেরিনার ক্যাপ্টেন এ.এফ.এম আনোয়ারুল হক ও তাঁর স্ত্রী মিসেস দিলরুবা আনোয়ার । যার ফল স্বরূপ ২০০৯ সালের জুন মাসে এই কামাউরা গ্রামের বুকে আত্মপ্রকাশ করে “তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজ”। গ্রামের মেয়েদের উন্নত গুণগত শিক্ষাদান, সু-শৃঙ্খল জীবন গড়ার অনুশীলন , সুস্বাস্থ্য রক্ষা, শিক্ষিত ভবিষ্যতের ‘মা’, নারী-পুরুষের বৈষম্যবোধ অর্থাৎ দায়িত্ব সম্পন্ন সুনাগরিক গড়ে তোলার সংকল্প নিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে সম্পূর্ণ অবৈতনিক এই মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন ক্যাপ্টেন এ.এফ.এম আনোয়ারুল হক
• প্রতিষ্ঠাতার পৈতৃক জমিসহ মোট ১৩৩ শতাংশ জমি নিয়ে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত, যার অখণ্ড জমির পরিমাণ হচ্ছে ৭৭শতাংশ এবং অন্যত্র রয়েছে ৫৬ শতাংশ।
• “তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজ” এর দুটি ক্যাম্পাস রয়েছে। ২০০৯ সালে স্থাপিত সেমিপাকা পুরাতন ক্যাম্পাস (ঙঈ) এবং ২০১২ সালে চারিদিকে প্রাচীরবেষ্টিত ‘মেইন ক্যাম্পাস’(গঈ)
• পুরাতন ও মেইন ক্যাম্পাসসহ কলেজের মোট কক্ষসংখ্যা হচ্ছে ২১ টি। যথা সভাপতি ও অধ্যক্ষের একটি করে, ক্লাসরুম ১০টি, অফিস ০২টি, শিক্ষক মিলনায়তন ০২টি, গ্রন্থাগার ০১টি, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব -০১টি, ছাত্রী কমনরুম -০২টি এবং অন্যান্য ০৩টি
• ফ্রেসরুম হচ্ছে ০৯টি। সভাপতি ও অধ্যক্ষের ০১ টি, শিক্ষকদের জন্য ০৪টি, ছাত্রীদের ০৬ টি, কর্মচারীদের- ০১টি।
• প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সরকারি বিধি মোতাবেক দায়িত্বশীল দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা কলেজটি পরিচালিত হচ্ছে।
• কলেজটিতে বর্তমানে দুটি বিভাগ আছে-মানবিক ও ব্যবসা ।
• শিক্ষকমণ্ডলীতে বর্তমানে আছেন নিবন্ধিত, অভিজ্ঞ,দক্ষ, ট্রেনিং প্রাপ্ত, পরিশ্রমী নিয়মিত ১০জন এবং ১জন খণ্ডকালীন শিক্ষক
• এখানে গরীব মেধাবী ছাত্রীদের উপবৃত্তি ও এসএসসি তে A+ প্রাপ্তদের প্রতি মাসে ৫০০ টাকা বৃত্তি দেওয়া হয় ।
প্রতি বছর ছাত্রীদের শিক্ষা সফরে নিয়ে যাওয়া হয়
মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমেও পাঠদান করা হয় ।
কলেজে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সেমিনার বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে । তাছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস সমূহ পালন করা হয়। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, এই কলেজের ছাত্রীরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে রানার্সআপ ও চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব বয়ে এনেছে কলেজের জন্য।
• ২০০৯-২০১০ শিক্ষা বছরে মাত্র ২০ জন ছাত্রী নিয়ে “তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজ” টি যাত্রা শুরু করেছিল, এখন কলেজের ছাত্রী সংখ্যা হচ্ছে ১৫৩ জন, এর মধ্যে বর্তমান শিক্ষাবছরে ভর্তি হয়েছে ৯৭ জন ছাত্রী।
• গত ৫ বছরে এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজের পাশের গড় হার হচ্ছে ৭৪%। পাশ করে যাওয়া ছাত্রীদের মধ্যে ৫৮% মেয়েরা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশুনা করছে, অনার্স পড়ছে ৬৪% এবং ডিগ্রী পড়ছে ৩৬% উল্লেখ্য বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই কলেজ থেকে পাশ করে ২ জন ছাত্রী অনার্স পড়ছে।
• নারী শিক্ষার সম্প্রসারণ , সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন , নারী বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক এই “তিন্নি আনোয়ার মহিলা কলেজ”। এলাকার মানুষের চাওয়া এ কলেজ সমপ্রসারিত হবে আরো উঁচু পর্যায়ে, আমাদের আশা আজকের যারা ছাত্রী আগামীতে তারাই কেউ না কেউ কলেজের দায়িত্ব বুঝে নেবে। আশেপাশের নারীদের কত কত স্বপ্ন আছে এই কলেজটিকে ঘিরে । এটি এখন একটি স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ।
এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের সবার । আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে মিলে নারীর ক্ষমতায়ন করার জন্য কাজ করে যাই, একটি সমৃদ্ধ, উন্নততর সমাজ - বাংলাদেশ গড়ে তুলি।
সুবিন্যস্ত করা ২০১৪
জনাব মিসেস দিলরুবা আনোয়ার